সূচিপত্র

HOME

alkama.org

চিরায়ত ছড়া ও কবিতা

প্রচলিত ছড়া

==========

বঙ্গবাণী

বিদ্যার মাহাত্ম্য

স্বদেশী ভাষা

মোদের গরব মোদের আশা

কে

আমার পণ

কপোতাক্ষ নদ

রসাল ও স্বর্ন লতিকা

অপব্যয়ের ফল

বুঝিবে সে কিসে

কাজের ছেলে

কাজলা দিদি

ছিন্ন মুকুল

খাঁটি সোনা

পাল্কীর গান

তুলনা

স্বর্গ ও নরক

ষোল আনাই মিছে

বাবুরাম সাপুড়ে

বিষম চিন্তা

কানা বগির ছা

সবার আমি ছাত্র

কবর

আসমানী

খুকির সম্পত্তি

মামার বাড়ি

প্রতিদান

নিমন্ত্রণ

রাখাল ছেলে

আজিকার শিশু

হেমন্ত

শিক্ষকের মর্যাদা

আমাদের দেশ

বৃষ্টির ছড়া

ঝুমকো জবা

বাক্ বাক্ কুম

গাধার কান

পণ্ডশ্রম

সাইক্লোন

ট্রেন

নোলক

ভর দুপুরে

শহীদ স্মরণে


বড় কে

সময়

পরিচ্ছদ

পারিব না

উপদেশ

আযান

কাজের লোক

মাস্টার বাবু

তালগাছ

আত্মত্রাণ

বীর পুরুষ

নন্দলাল

ধনধান্য পুষ্পভরা

পাছে লোকে কিছু বলে

স্বাধীনতার সুখ

পরোপকার

মজার দেশ

আদর্শ ছেলে

মানুষ জাতি

ফুলের ফসল

কোন দেশে

হনহন পনপন

নবীর শিক্ষা

শিশুর পণ

প্রার্থনা

বনভোজন

কামনা

প্রভাতী

সংকল্প

খোকার সাধ

লিচু চোর

খুকি ও কাঠ বিড়ালি

শিশু যাদুকর

মানুষের সেবা

আবার আসিব ফিরে

মেঘনায় ঢল

আমাদের গ্রাম

নদী-স্বপ্ন

চাষী

সফদার ডাক্তার

মেঘনা পাড়ের ছেলে

রূপকথা

স্বদেশ

পুরনো ধাঁধাঁ

সকাল

গ্রীষ্মের দুপুরে

তালেব মাস্টার

জসীমউদদীন

নিমন্ত্রণ

তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমদের ছোট গাঁয়

গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;

মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি

মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,

মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভায়ের স্নেহের ছায়,

তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,

কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া।

ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী,

পারের খবর টানাটানি করি-

বিনাসূতি মালা গাঁথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;

বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তীরের হিয়া।

তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে- নরম ঘাসের পাতে,

চুম্বন রাখি অম্বরখানিরে মেজে লয়ো নিরালাতে।

তেলাকুচ-লতা গলায় পরিয়া

মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,

হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,

তোমার পায়ের রঙখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।

তুমি যদি যাও আমাদের গাঁয়ে, তোমারে সঙ্গ করি

নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী

মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া,

তব সনে দেই মিতালি করিয়া,

ঢেলা কুড়াইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি

সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি।

তুমি যদি যাও – দেখিবে সেখানে মটর-লতার সনে,

সীম-আর-সীম হাত বাড়ালেই মুঠি ভরে সেইখানে।

তুমি যদি যাও সে-সব কুড়ায়ে,

নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে,

খাব আর যত গেঁয়ো চাষিদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে,

হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব জনে জনে।

তুমি যদি যাও- শামুক কুড়ায়ে, খুব-খুব বড় করে

এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে;

কারেও দেব না, তুমি যদি চাও

মনের খুশিতে দিয়ে দেব তাও,

গলায় পরিবে ঝুমঝুম রবে পথেরে মুখর করে,

হাসিব খেলিব গাহিব নাচিব সারাটি গেরাম ভরে।

খুব ভোর করে উঠিতে হইবে, সুয্যি উঠারও আগে,

কারেও কবি না দেখিস পায়ের শব্দে কেহ না জাগে।

রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে

ডানকিনে মাছ কিলবিল করে;

কাদার বাঁধাল গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগেভাগে,

সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে।

ভর দুপুরেতে একরাশ কাদা আর একরাশ মাছ,

কাপড়ে জাড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ;

'ওরে মুখ-পোড়া ওরে রে বাঁদর।'

গালি-ভরা মার অমনি আদর,

কতদিন আমি শুনি নারে ভাই, আমার মায়ের পাছ;

যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ।

যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়,

ঘন কালো বন-মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়।

গাছের ছায়ায় বনের লতায়,

মোর শিশুকাল, লুকায়েছে হায়!

আজিকে সে-সব সরায়ে সরায়ে খুঁজিয়া লইব তায়,

যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।